গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সদ্য সমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার ছেলেসহ পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার নলডাঙ্গা সরকারি খাদ্য গুদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সাদুল্লাপুর থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান। ঘটনার সময় এলাকাবাসী তিন জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার পাঁচ জনের নামে মামলা হয়েছে থানায়, যাদের মধ্যে আটক তিন জনও রয়েছেন। আসামিরা হলেন নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক দুদু মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২৩), ইউনিয়নের কিশামত হামিদ গ্রামের গ্যারেজ মাহাফুজ রহমানের ছেলে বাবু মিয়া (২২), পশ্চিম খামার দশলিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২১), আমজাদ হোসেনের ছেলে রুবেল মিয়া (২২) ও দশানি গ্রামের শাহেদুলের ছেলে খুশু মিয়া (২৩)। ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওসি বোরহান উদ্দিন মামলার বরাত দিয়ে জানান, গত শুক্রবার বিকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে তার মায়ের সঙ্গে কাপড় কিনতে নলডাঙ্গা বাজারে যায়। কেনাকাটার পর সন্ধ্যায় মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলে মা তার বাবার বাড়ি যান। ওসি বলেন, ওই শিক্ষার্থী তখন হেঁটে একা বাড়ি ফিরছিল। পথে নলডাঙ্গা সরকারি খাদ্য গুদাম এলাকায় পৌঁছলে সোহাগ তার পথরোধ করে। এরপর সোহাগসহ তার সহযোগী শরিফুল, বাবু, রুবেল ও খুশু এসে তার ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে পাশের আখ ক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওসি বলেন, এ সময় মেয়েটির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার এবং শরিফুল ও বাবুকে হাতেনাতে আটক করে। পরে নলডাঙ্গা রেল গেট এলাকার দোকান থেকে সোহাগকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে সোহাগ, বাবু ও শরিফুলকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। রুবেল ও খুশু মিয়া পলাতক রয়েছে। ওসি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া পলাতক দুই আসামি রুবেল ও খুশু মিয়াও ধর্ষণ করেছে বলে আটকরা বলেছে। স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এলাকায় বিক্ষোভ এবং সোহাগের বাবা যুবলীগ নেতা দুদুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর করেছে।